Home / গণিত নিয়ে মজার কিছু / কৌতুক / গণিতের পঞ্চ কৌতুক (ফার্মেটের লাস্ট থিওরেমসহ)

গণিতের পঞ্চ কৌতুক (ফার্মেটের লাস্ট থিওরেমসহ)

১। প্রশ্নোত্তর কৌতুক
(ক) প্রশ্ন: বৃত্ত তার স্পর্শককে কী বলে?
উত্তর: আমার গায়ে হাত দেয়া বন্ধ কর।X((
(খ) প্রশ্ন: গণিতবিদ কেন তার কুকুরটির নাম রাখলেন কশি?
উত্তর: কারণ এটি পোলে পোলে অবশেষ ছেড়ে যায়।
(গ) প্রশ্ন: চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর কিছু মানুষ উদ্বৃত্ত খাবার কেন বাসায় নিয়ে আসে?
উত্তর: কারণ তারা “চাইনিজ রিমেইন্ডার থিওরেম”-এর ব্যাপারে অবগত।
(ঘ) প্রশ্ন: পশ্চিম ইউরোপের চারপাশ বরাবর কনট্যুর ইন্টেগ্রালের মান কত?
উত্তর: ০।
প্রশ্ন: কেন?
উত্তর: কারণ সব পোল পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত।
না, এক সেকেণ্ড, আসলে পশ্চিম ইউরোপেও কিছু পোল আছে, কিন্তু সেগুলো অপসারণযোগ্য। :|
(ঙ) লং ডিসট্যান্স টেলিফোন কল করতে গিয়ে পাওয়া এক অটোমেটেড মেসেজ:
“আপনি যে নম্বরটিতে ডায়াল করেছেন, তা কাল্পনিক। দয়া করে আপনার ফোনসেটটিকে ৯০ডিগ্রি কোণে ঘুরিয়ে নিন এবং আবার চেষ্টা করুন। ধন্যবাদ।”

২। সামরিক বাহিনীর গণিত
(ক) বুয়েটে কন্ট্রোল এঞ্জিনিয়ারিং পড়ান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর লেকচার দিতে গিয়ে, পুরোনো আমলের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রসঙ্গে একদিন তিনি বললেন, “যদি তোমরা এটি কোনো বি-৫২ বোমারু বিমানের দিকে নিক্ষেপ কর, তাহলে বিমানটিকে হিট করার সম্ভাবনা ৫%।”
“আমরা যদি ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানের গায়ে না লাগিয়ে, কেবল সতর্ক করতে, এর আশেপাশে ছুঁড়ি?” জানতে চায় এক ছাত্র।
খানিকক্ষণ ভাবেন কর্নেল, তারপর উত্তর দেন, “সেক্ষেত্রে বিমানটি হিট করার সম্ভাবনা ৯৫%।”

কর্নেলের আরো কিছু বিখ্যাত উক্তি
(খ) ট্যাঙ্কের ভেতর পানির স্ফূটনাঙ্ক ৯০ ডিগ্রি। না, এক সেকেণ্ড, ৯০ ডিগ্রি তো এক সমকোণ!
(গ) কোনো গোলা নিক্ষেপ করলে, প্রথমে এটি পরাবৃত্তের কারণে এবং পরে গতি জড়তার কারণে অগ্রসর হয়।
(ঘ) শুনলাম, তোমরা নাকি গণিতের প্রতি দুর্বল? যাও, বেলচা নিয়ে বাগানে গিয়ে মূল বের কর।
(ঙ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব হচ্ছে প্রতি মাইলে ২,৫০০ বর্গ জন। :P

৩। একজন তত্ত্বীয় এবং একজন ব্যবহারিক গণিতবিদকে বলা হলো ২ × ২ এর মান নির্ণয় করতে।

ব্যবহারিক গণিতবিদের সমাধান
আমরা জানি,
২ × ২
= ২ × ১/(১ – ১/২)
ডানপাশের দ্বিতীয় পদটিকে একটি অসীম গুণোত্তর ধারায় প্রকাশ করা যায়, যা নিম্নরূপ:
১/(১ – ১/২) = ১ + ১/২ + ১/৪ + ১/৮ + … … … ∞ পর্যন্ত।
যেহেতু ধারার পদগুলো দ্রুত ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছে, তাই দ্বিতীয় পদের পর অবশিষ্ট পদগুলোকে উপেক্ষা করে পাই,
২ × ২ = ২ × (১ + ১/২) = ৩।

তত্ত্বীয় গণিতবিদের সমাধান
আমরা জানি,
২ × ২
= (-২) × ১/(১-৩/২)
ডানপাশের পদটিকে একটি অসীম গুণোত্তর ধারায় প্রকাশ করা যায়, যা নিম্নরূপ:
১/(১-৩/২) = ১ + ৩/২ + ৯/৪ + ২৭/৮ + … … … ∞, যা একটি ডাইভারজ্যান্ট সিরিজ। অতএব ২ × ২ এর কোনো সুনির্দিষ্ট মান নেই। :|

৪। নেত্রকোণা সদর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক রফিক উদ্দিন মিয়া ঢাকা এসেছেন কাজে। রাস্তায় দেখা হয়ে গেল বহুকাল আগের এক ছাত্রের সাথে, দামী স্যুট-ব্যুট পড়া, নামছেও দামী গাড়ি থেকে।
রফিক উদ্দিন সামনে গিয়ে বললেন, “কে, আবুল না? চিনতে পারছিস আমাকে?”
হাসিতে উজ্জ্বল হয় আবুলের মুখ, “জি, স্যার! কেমন আছেন আপনি?”
“এই চলছে কোনোরকম। তা, তোর দেখি বেশ উন্নতি হয়েছে রে! মনে কি পড়ে, অঙ্ক পারতিস না বলে কত মেরেছি তোকে ছোটবেলায়? বলতে খারাপ লাগলেও, গণিতে তোর মতো খারাপ ছাত্র জীবনে আর কাউকে পাইনি। কত চেষ্টাই না করলাম তোকে অঙ্কে মানুষ করতে, কিন্তু কোনো কাজ হলো না!”
লাজুক, বিব্রত হাসি দেয় আবুল, ব্যস্ত রাস্তায় মানুষের ভিড়, উসখুস করে সে।
“তা কী করিস তুই? এত উন্নতির রহস্য কী!” জানতে চান রফিক উদ্দিন মিয়া।
“এই তো, স্যার। তেমন বড় ধরণের কিছু না। সকালবেলা বনরুটি কিনে দুপুরবেলা, লাঞ্চ টাইমে অফিস আর রেস্টুরেন্টগুলোতে সাপ্লাই দেই। প্রতি পিস ১ টাকা করে কিনি, বেচি ৬ টাকা করে। এই ৫% মাত্র লাভ, কিন্তু আপনাদের দোয়ায় এতেই বেশ চলে যাচ্ছে, স্যার।” :-/

৫। দাম্পত্য জীবন নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন এক স্বামী, অনুভব করছেন পারস্পরিক সম্পর্কে আগের মতো আর আবেগ আকর্ষণ উদ্দামতা নেই। সম্পর্কটিকে আবার কীভাবে উদ্দাম করা যায়, এ ব্যাপারে পরামর্শ নিতে গোপনে ম্যারেজ কাউন্সেলরের কাছে যাতায়াত শুরু করলেন তিনি। কাউন্সেলর মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনলেন, তারপর ভাল্লুকের চামড়ার একটা মাদুর কিনে সেটি লিভিং রুমে বিছিয়ে রাখার উপদেশ দিলেন তাকে।

স্বামীটি বাজারে গিয়ে অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে ভাল্লুক-চামড়ার সবচেয়ে বড় মাদুরটি কিনলেন। তারপর বাসায় ফিরে লিভিংরুমের কাঠের শক্ত মেঝে ঢেকে দিলেন মাদুর দিয়ে।

বিকেলে অফিস থেকে বাসায় ফিরেই বউয়ের চোখে পড়ল ভাল্লুক-চামড়ার মাদুর। গোপনে এটিকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলেন তিনি। ধীরে ধীরে তার চোখে ফুটে উঠল অদ্ভুত, রহস্যময় হাসি, নিবিড়ভাবে তাকিয়ে রইলেন স্বামীর চোখে কিছুক্ষণ। তারপর হঠাৎ লাফ দিয়ে দুহাতে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। বহু দিন পর উত্তুঙ্গ রোমান্টিক সময় কাটালেন তারা।

পরদিন স্বামীটি কাউন্সেলরের কাছে গিয়ে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন। তারপর বললেন, “আচ্ছা, আপনি কীভাবে জানতেন, ভাল্লুকের চামড়ার মধ্যেই রহস্য লুকিয়ে আছে!”
“সহজ-সরল গণিত,” হাসতে হাসতে উত্তর দেন কাউন্সেলর, “এটি হচ্ছে “Fur-mats Lust Theorem’ “।

About ম্যাভেরিক

8 comments

  1. “Fur-mats Lust Theorem” এই ব্যাপারটা বুঝিনি।

Leave a Reply

Scroll To Top